যে সত্য অন্বেষণ করে মন থেকে, সে পড়ে। সে প্রশ্ন করে কিন্তু যুক্তি খুব কমই দেয়। যুক্তি দিতে হয় কোন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে। কোম ধ্রুবকের ক্ষেত্রে যুক্তি চলে না। ইসলামে যে সব কাজ হালাল করা হয়েছে, সেগুলো হল ধ্রুবক আর এক্ষেত্রে এগুলো এতটুকু পরিবর্তনের জন্য বিতর্কটা হল, এগুলো সম্পর্কে যে স্পষ্ট এবং সত্যিকারের জ্ঞানটা নেই তা প্রমাণ করা। আমাদের আরেকটি সমস্যা হল যে, আমরা মূর্খ লোকদের কাছ থেকে অনেক জ্ঞান আশা করি এবং সবকিছু ইনস্ট্যান্ট পেতে চাই। “ইসলামের যে সব জিনিস ভালো শুনতে, সেগুলো পালন করব আর যে সব জিনিস একটু অন্যরকম সেগুলো তো জানাই হয় না কারণ আমি তো আর শরীয়াহ বিষয়ে পড়াশুনা করি না, দ্বীনের জ্ঞান আমার একটুও নেই আর কেউ চেষ্টা করতে বলে আমার ইগোতে খুব লাগে, আর এই সব ঘাটাঘাটি করার সময় কই।? তাই যখন কেউ এইসব বিষয়ে জানায়, তখনই আমার মাথায় আগুন ধরে যায়। এতদিন কি আরামে নিজের মনগড়া মতবাদকে একমাত্র মানবতা হিসেবে বিশ্বাস করে আসছি আর ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে আসছি, এইসব এক্সট্রিমিস্টরা, রেডিক্যালরা এইসব কি বলছে!” এক্সট্রিমিস্ট আর রেডিক্যাল শব্দগুলো দিয়েই আসলে তাদের বুঝা উচিত ছিল যে তারা ইসলাম পালন করে না, আর এক্সট্রিমিস্ট আর রেডিক্যালরা পালন করে অথবা অন্তত চেষ্টা করে। অথচ তা করলেও তাদের মনে আগুন ধরে যায়, কারণ তার ফিতরাহই তাকে বলে, “তুই মুনাফিকের মত!”
সুদী ব্যাংক, সুদ এইসব নিয়ে তারা কখনোই সুদী ব্যাংকে যারা চাকুরী করে তাদের সাথে তর্ক, বিতর্ক করে না। কেন? কারণ অনুসদ্ধান করলে দেখা যায় যে তারা নিজেরাই সুদী ব্যাংকে চাকুরী করে অথবা করতে আগ্রহী। এইসব আত্মীয়র বাসায় দেদারসে খাওয়া-দাওয়া, লেনদেন চলে! এখন এদের সুদী কারবার নিয়ে খোঁচা দেয়া কি ঠিক হবে? এরাই আবার বলে, জঙ্গিরা স্কুল ছাত্রী ধরে নিল কেন? বোমা মারল কেন? এইসব প্রশ্ন করতে করতে এত মানবতা নিজেদের মধ্যে রাখায় আর সস্তি পায় না। জঙ্গিরা যদি সুদ খেত, অথবা আড়ালে আবডালে এইসব খ্রিস্টান মেয়েদের সাথে ব্যভিচার করত তখন কিন্তু জঙ্গিদের প্রতি এদের কোন অভিযোগই থাকত না। আসলেই না, কারণ যারা এইসব করে, প্রচার-প্রসার ঘটায় তাদের প্রতি বিন্দু মাত্র অভিযোগও তাদের নেই। যদি থাকত, তবে তারা এদের বিরুদ্ধে প্রবল কন্ঠে কথা বলত। আসলে তারা এগুলোকেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিচ্ছে। জঙ্গিরা কিছু খ্রিষ্টান মেয়েকে জোর করে কাপড় পরালে তাদের যতটুকু আপত্তি, সে সব মেয়েকে তাদের বাপ-ভাইরা দিন দুপুরে মিডিয়ার কাছে বিক্রি করলে অথবা মুসলিম যুবকরাই গোপনে তাদের কাপড় খুলে নিলে এদের এতটুকুও আপত্তি হয় না। এটাই তাদের কাছে স্বাভাবিক।
একজন মুসলিমের কাছে সুদ খাওয়ার ব্যাপারটি স্বাভাবিক হতে পারে না। হতে পারে অনেকদিন ধরে অনেক মুসলিম তা হালালের মত করে খেয়ে আসছে কিন্তু কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এইকজন মুমিন এই ব্যাপারটিকে ঘৃণা করেবে এবং পৃথিবীর বুকে অস্বাভাবিক কাজ হিসেবেই বিবেচনা করবে। তেমনি বেশ্যাবৃত্তি, ব্যভিচার, অশালীনতা, কুশিক্ষাকেও মুমিনরা পৃথিবীর বুকে অস্বাভাবিক কাজ হিসেবেই জানে, যদিও সেগুলো হালালের মত করে মানুষজন করে আসছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় অস্বাভাবিক ব্যাপার হচ্ছে এক আল্লাহর ইবাদত না করে শয়তান যাকে ইবাদত করতে বলে তার ইবাদত করা। নিজের অবর্জনা যুক্ত নফসের ইবাদত, তাগুতের ইবাদত করতে করতে আল্লাহর ইবাদত করার টাইম কই বাপু? ইসলামকে নিজের যুক্তির দাস যারা বানাতে চায়, তাদের জন্য বলছি, ইবলিশ কিন্তু আল্লাহর আদেশের বিপরীতে নিজের বাকস্বাধীনতাই প্রয়োগ করেছিল মাত্র!!
গণতন্ত্র বনাম ইসলাম।
জিবনের প্রতিটি পর্যায়ে এদুটি ভিন্ন ধর্মের সংঘাত চলছে অনিবার্যভাবে। দুঃখ্জনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে প্রতিটি সংঘাতে গণতন্ত্রই বিজয়ী। গণতন্ত্র এখন প্রশাসক, ইসলাম শাসিত। গণতন্ত্র ইসলামের যেটুকুর বৈধতা দেয়, শুধু সেটুকুই পালনীয়। বাকিটা বর্জিনীয়!
গণতণ্ত্র আমাদের জন্য নামাজ রোজাকে জায়েজ করেছে, আমরা তা পালন করছি। গণতন্ত্র জিহাদকে হারাম করেছে, আমরা তা বর্জন করেছি। গণতন্ত্র সুদকে হালাল করেছে, আমরাও তা হালাল করে নিয়েছি। গণতন্ত্র বাল্য বিবাহকে হারাম করেছে, আমরাও তা হারাম করে নিয়েছি। বিজয়ী গণতন্ত্রের এমন অসংখ্য উদাহরণ আজ আমাদের সামনে স্পষ্ট। দিনের পর দিন গণতন্ত্র ইসলামের হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করে চলছে। কিন্তু... কিন্তু.......
মাছি এবং মৌমাছি। প্রজাতি এক হলেও স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমটি নিজের রিজিক অন্বেষণ করে ময়লার ভেতরে। দ্বিতীয়টি নিজের রিজিক অন্বেষণ করে ফুলের ভেতরে। অনুরূপভাবে কিছু মানুষ আছে যারা রিজিক অন্বেষণ করে হারামের মাঝে;পক্ষান্তরে কিছু মানুষ আছেন যারা রিজিক অন্বেষণ করে হালালের মাঝে। অথচ রিজিক অন্বেষণের যে পদ্বতিই আপনি অবলম্বন করেননা কেন;রিজিকদাতা মহান আল্লাহ আপনাকে ওই পরিমাণই দান করবেন যা তিনি আপনার তাকদীরে রেখেছেন। তবে একটি জরুরী মাসআলা জেনে নিন--
নিশ্চিতভাবে হারাম জানা সত্ত্বেও কোনো হারাম খাদ্য (যা হারাম হওয়ার বিষয়টি অকাট্য ও সকলেরই জানা) বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া মারাত্মক গুনাহ ও কুফরি কাজ। তবে উপহাস বা ঠাট্টা উদ্দেশ্য না হলে এ কারণে কাউকে কাফের বলা যাবে না। অবশ্য এক্ষেত্রে লোকটি মারাত্মক গুনাহগার ও ফাসেক বলে গণ্য হবে।আর উপহাস বা ঠাট্টার উদ্দেশ্যে কেউ এরূপ করলে সে কাফের হয়ে যাবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত হারাম বস্ত্তর উপর কেউ উপহাস বা ঠাট্টার সাথে বিসমিল্লাহ বলেছে এটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলা যাবে না।
-হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ২/৪৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৭/৩২৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৪