Boycott Democracy ...
এই গণতন্ত্র আমিরিকান পণ্য হিসেবে পরিচিতি পেলেও ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এটি জায়ানিস্টদের চিন্তার ফসল, তারাই দুনিয়াব্যাপী এই কুফরকে ছড়িয়ে দেয়ার মূল কারিগর। সেই জায়ানিস্ট যারা গাজাতে আমাদের ভাই-বোনদের রক্ত দিয়ে হলি খেলায় মেতে উঠেছে। এরা হল সেই জায়ানিস্ট যারা সুদ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা বিশ্বের অর্থ সম্পদকে নিজেদের মুঠোয় আনতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এরাই প্রচলন করেছে ধর্ম নিরপেক্ষতা!! সাহস আছে এইগুলো বর্জনের???
আরে ভাই, জায়ানিস্ট ইহুদিদের কিছু খাদ্যপণ্য বর্জন করে আপনি হয়ত নিজের নূন্যতম ঈমান নিয়ে সন্তুষ্ট হচ্ছেন কিন্তু বাস্তবতা হল যে সেই সব পণ্যগুলো হালাল কিন্তু আপনি তাদের প্রচলিত হারাম পণ্যগুলো বর্জন করছেন না। এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হল ইসলাম বিধ্বংসী ব্যাপার!! ব্যাংকের সুদ আর গণতন্ত্রের আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানব রচিত আইন হচ্ছে হারাম। যে হালাল বলল সে কাফির। যে হারাম বলেও পালন করল সে চরম রকমের জালিম, জাহিল এবং ফাসিক। জায়ানিস্টরা আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা না করলেও এই পণ্যগুলো বর্জন বা না বর্জন হল ঈমানের প্রশ্ন। দেখি কত জন আছেন এই ব্যাংক আর গণতন্ত্রকে বর্জনের সাহাস দেখাবার জন্যে??
ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামিক গণতন্ত্র হালাল কি হারাম এই প্রশ্নে যাবো না। জায়ানিস্টদের খাদ্যপণ্য ব্যবহার করাও হালাল কিন্তু আপনি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন?? কারণ, এতে তাদের কিছুটা হলেও ক্ষতি হবে, তাদের প্রতি অন্তত ঘৃণা প্রদর্শন হবে, এই ভেবেই তো?? আরে ভাই, ইসলামিক ব্যাংকের লেনদেনও কিন্তু সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সাথে যেটা জায়ানিস্টরাই নিয়ন্ত্রণ করে আর ইসলামিক গণতন্ত্রও সেকুলার গণতন্ত্রের সাথে উঠাবসা করে, অর্থাৎ লাভ যা হবার কুফফারেরই হয়। আরো ভালো করে বললে সেই জায়ানিস্ট ইহুদিদেরই হয়, যারা আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করার নেশায় বুদ হয়ে আছে!!! আর আপনি কি না এখনো তাদের টাইটেল নকল করে পাশে ইসলামিক লাগিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছেন?? অথচ কুফফার, তাগুতকে নয় বরং আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলাকেই খুশি রাখাটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য, এটাই আমাদের ধর্ম! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না...
তো আপনি পণ্য বর্জন করবেন, তাই না?? জায়ানিস্ট ইহুদিদের একটু হলেও ক্ষতি করতে চান। অথচ সেই আপনই তাদের বানানো সুদী ব্যাংকে টাকা রাখেন আর তাদের বানানো কুফরী গণতন্ত্রে বসে বসে সুশীল রাজনীতি করেন!! এর মাধ্যমে যে আপনি তাদের কতটা লাভবান করছেন, সেই জ্ঞান যদি আপনার না থাকে, তবে বলতে হয় আপনার জীবনের ষোল আনাই এখন পর্যন্ত বৃথা।
আমিরিকা এবং তার দোসররা, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো, ওয়ার অন টেররে বিশ্বাসী গোষ্ঠিগুলো যতফোঁটা রক্ত ঝরিয়েছে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনের, আল্লাহ আয ওয়াজাল নিশ্চয়ই কড়ায় গন্ডায় এগুলোর হিসেব চুকিয়ে দিবেন। এদের প্রত্যেকের পণ্য বর্জন করার কথা কেন আমাদের মনে হয় না?? যতটুকু সম্ভব হোক, দাবীটাও কেন উঠল না?? না কি গাজার মুসলিমরাই কি শুধু মুসলিম?? আরাকান, কাশ্মীর, চেচনিয়া, সিরিয়া বিশেষ করে ইরাক, ইয়ামান আর আফগানের মুসলিমরা মুসলিম না??? তাদের যখন আমিরিকানরা প্রকাশ্যে হত্যা করে, তখন কই থাকে আমাদের চোখের জল আর নাকের জল?? আসলে গাজা একটা ইভেন্ট হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতি দু’বছর পরপর ইসরাইলিরা শো আয়োজন করে আর পথভ্রষ্ট উম্মাহ লোকদেখানো আল-ওয়ালা প্রদর্শনে হুমড়ি খেয়ে পড়ি!! সত্য কথা হ্যাসট্যাগ আর পণ্য বর্জন ছাড়া তারা আর কিই বা করতে পারে তারা?? পণ্য বর্জন যদি করতে হয়, তবে কেন নয় ব্যাংক আর গণতন্ত্র??
গণতন্ত্র আর ব্যাংক হোক সেই সব পণ্য যেগুলো জায়ানিস্টরা নিজেদের সাম্রাজ্য গড়তে তৈরী করেছিল, সেগুলোকেই বর্জন করে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে থাকা অর্থপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী কাজগুলো করি। খাদ্যপণ্য বর্জন করে তদের তেমন কোন ক্ষতিই হবে না। যেমন সুদ বন্ধ না করে যাকাত প্রতিষ্ঠার পরও তার ফলাফল পাওয়া যায় না। গণতন্ত্র আর ব্যাংক ধ্বংস করতে না পারলে, তাদের থামানো যাবে না। আর আমরা জানি এগুলো অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা যায় না, গণতন্ত্র এবং ব্যাংক ধ্বংস হয় বর্জনের মাধ্যমে। যে বর্জন করল না, সে এইসব কুফরীরই রক্ষক! কাফিরকে অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা যায় কিন্তু কুফরকে ধ্বংস করতে দরকার সেগুলোকে বর্জন করা।
আসুন জায়ানিস্ট ইহুদিদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম ব্যাংক এবং গনতন্ত্রকে রিজেক্ট করেই যুদ্ধে নামি। আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলা শেষ পর্যন্ত দেখে নিতে চান যে কে আসলেই তার পক্ষে। তিনি সহজ করুক, আমাদের কবুল করুক। তিনি যেন এইসব তাগুত এবং তাদের কাজকর্ম বর্জন করে তাওহীদ গ্রহণের ব্যাপারে আমাদের কবুল করে নেন।
ইনশা’আল্লাহ শহীদ হওয়া ভাই-বোনেরা তো পার পেয়ে যাচ্ছে কিন্তু রেখে যাচ্ছে আমাদের অনেক বড় কঠিন পরীক্ষার মাঝে, নূন্যতম নিফাক্ব যেখানে জাহান্নামের অতল গহবরে ফেলে দিতে পারে। আল্লাহ আয ওয়াজাল তার বান্দাদের সঠিক পথে রেখে হিফাজাত করুক। -আমীন।
https://www.facebook.com/
#
বর্তমানে আমাদের শিরা উপশিরাতে জেঁকে বসা সুদ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূহুর্তেই ত্যাগ করা যাবে কি না তা ভিন্ন প্রশ্ন, কিন্তু ব্যাংকের বিরুদ্ধে কিছু বললে, মুসলিমরাই যেভাবে গাল-মন্দ, অথবা ব্যক্কল টাইপ ট্যাগ দেয়!!! একটা হাদিস শুনেছিলাম যে রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, “একটা সময় আসবে যে তোমাদের মধ্যে যারা সুদ খাবে না, তাদের গায়েও সুদের ছিঁটে-ফোঁটা আসবে।”
নারী সংক্রান্ত আলোচনা সবারই ভালো লাগে কিন্তু ঈমানদাররা এইসব নিয়ে মেতে থাকতে পারে না। এইরকম প্রসঙ্গ চলে আসলে সেটাকে এড়িয়ে যেতে হয়, এর মানে এই না যে সে নারী বিদ্বেষী বা সে অতি পরহেজগার। এর মানে যে সে চেষ্টা করছে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। অনেককে বলতে শুনা যায় যে, “আমরা কি অন্য কিছুর ভিত্তিতে আলোচনা করছি না কি?? মন সাফ রাখলেই চলে!” আরে ভাই বললাম তো আমার মন সাফ নাই, আমারে একটু সাফ করতে দে এবার।
তেমনি ভাবে আমার অবশ্যই অর্থ সম্পদের লোভ আছে। কোটি কোটি টাকার মোহ আমি মূহুর্তেই ছেড়ে দিতে পারব না। তবে কোন পরিস্থিতি যদি দ্বীনের কিছুটা পরিপন্থী হয়ে যায় অথবা সন্দেহ থাকে সেটাকে আমি ন্যায্য বলে প্রচারও করব না। আরে ভাই এখনেই গরীবরা ধনীদের চেয়ে এগিয়ে যায়। তাদের তো ব্যাংকে টাকা রাখার প্রয়োজনই পড়ে না। কিন্তু কোটি পতির???? আমি মূহুর্তেই কোটি টাকাকে আবহেলা করছি, বাস্তবে পারব কি না জানি না। কিন্তু লেখার সময়ও যদি আমি মনে করি যে কোটি টাকা কই রাখবো?? আরে এখন ব্যাংকের বিরুদ্ধে লিখলে তো জনগণ (পড়ুন কিছু ধনী শ্রেণী) বিপদে পড়বে.... এভাবে করতে থাকলে তো একজনও ব্যাংকের বিরুদ্ধে যাবে না আর ব্যাংকও আগের মত চলতে থাকতে থাকতে গুনত্তোর ধারায় শক্তিশালী হয়েই চলবে।
আরেকটা কথা শোনা যায় যে খিলাফাহ আসলে তো আমরা সুদহীন ব্যাংক চালু করতে পারবো। আরে ভাই ‘ব্যাংক’ই কেন চালু করতে হবে?? ‘অন্য কোন নাম’ কি আমাদের মাথায় আসে না?? একটি শব্দ জায়ানিস্টরা সৃষ্টি করেছে, আমরা তাদের এনকাউন্টার দিতে গিয়ে নিজেরা তো কোন ভালো কিছু করতেই পারছি না, উল্টো তাদের পন্থা আংশিক নকল করতে গিয়ে আমাদের উত্তম পন্থা বাদ দিয়ে দিচ্ছি। ব্যাংক, গণতন্ত্র যত ভালো শব্দই হোক, আমরা সেটার বিপরীত শব্দ ব্যবহার করব। এখানেই হল বর্জনের মোহনীয়তা।
এখন আপনি ব্যাংক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারছেন না, সেটা ভিন্ন কথা। সেটা জরুরী অবস্থা। সেটাকে সাইডে রাখুন। প্লিস জরুরী অবস্থাকে বারবার অযুহাত হিসেবে প্রকাশ করতে থাকলে সেটা একসময় সাধারণ অবস্থাতে পরিণত হয়। এখন কোটি কোটি টাকা দিয়ে আল্লাহ আপনাকে পরীক্ষা করছেন এবং তিনি সাধ্যের অতিরিক্ত পরীক্ষা বান্দার উপর চাপান না। আমার কোটি টাকা নেই, তাই আমার সেকেন্ড দেরী হয় নি ব্যাংক ব্যবস্থাকে রিজেক্ট করার জন্য। আপনাদের হয়ত সময় লাগবে। সুতরাং সময়টা গোপণেই লাগান। দরকার কি এই বলা যে ব্যাংক ছাড়া আমরা কিভাবে চলব? কিছু দিন চলতে পারবেন না, তাই বলে এই না যে ব্যাংক হালাল হয়ে গেল। আর আপনি যদি সাচ্ছন্দে ব্যাংকে টাকা রেখে থাকতে পারেন সেটা তো দোষের পর্যায়েই পড়ে। বিপদে পড়লে যখন শুকরের মাংস খাওয়া যায়, তখন সেটাতে ঘৃনা রেখে খাওয়াটার নিয়ম বলেই জানি এবং জীবন বাঁচাতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু বলেই জানি। স্বাদ করে, রসম পাঁকিয়ে শুকরের মাংস খাওয়াটা তো চিন্তার বাহিরে। কিন্তু ব্যাংকের ক্ষেত্রে কি আমরা সেই রকমটা করছি??
অধিকাংশ লোক হল গরীব। তাদের ব্যাংক দরকার হয় না। গুটি কয়েক বড়লোক ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে তো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যুকে চাপা দিতে পারি না। কোক, পেপসি ছাড়াটা খুব সহজ, এখন দেখি কতজন গণতন্ত্র আর ব্যাংক ত্যাগ করতে পারেন, যতি আসলেই ত্যাগ করার অর্থটা বুঝে থাকেন। আল্লাহর জন্য ত্যাগ করা।
আরো একটা হাদিস শুনেছিলাম যে, “গরীবরা ধনীদের আগে জান্নাতে যাবে।”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন